আন্তর্জাতিক বেস্ট সেলার লেখক ও বক্তা শিব খেরা যিনি মানুষকে কর্মে উদ্দীপ্ত করার বিষয় সম্পর্কিত লেখালেখি এবং বক্তব্য প্রদান করেন তিনি বলেন, "উপযুক্ত গুণমান সম্পন্ন মানুষ তারাই যাদের চরিত্র আছে, সততা আছে, মূল্যবোধ আছে আর সর্বোপরি আছে ইতিবাচক মনোভাব।" তিনি আরও বলেন যে, "সব বিষয়েই প্রশিক্ষণ দরকার। আর প্রশিক্ষণের সফলতা নির্ভর করে উপযুক্ত গুণমান সম্পন্ন শিক্ষার্থীর উপর।"
তাহলে, আমরা দেখতে পাচ্ছি, যে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্তির যেকোনো ভালো কিছুকে গ্রহণ এবং খারাপ কিছুকে বর্জন করতে ব্যক্তিকে সহায়তা করে।
গভীর সমুদ্রে থাকা আইস বার্গ বা বরফের খণ্ড্য এর সাথে ধাক্কা খেয়ে ১৯১২ তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ টাইটানিক ডুবে যায়। এই আইস বার্গ এর উপরের অংশের চেয়ে পানির গভীরে থাকা অংশ কয়েকগুণ বেশি বড়। পানিতে ভেসে থাকা অংশ টা আমাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। আর, পানির গভীরে যে কয়েকগুণ বেশি আইস বার্গ এর অংশ থাকে, সেটা হোল আমাদের মনোভাব।
সাধারণত, মনোভাব কে ঠিক কোন কোন উপাদান প্রভাবিত করে বা করতে পারে, তা নির্দিষ্ট করে বলা প্রায় অসম্ভব। তবে, কিছু সাধারণ উপদান আছে, যা ব্যক্তি বিশেষ প্রায় সবাইকেই প্রভাবিত করে থাকে। এবং এসব উপাদানের বলয়ে ব্যক্তির মনোভাব গঠিত হয়।
মনোভাব গঠনের তিনটি সাধারণ উপাদান হোল...
১। পরিবেশ
২। অভিজ্ঞতা
৩। শিক্ষা
এছাড়াও আরও কিছু উপাদান রয়েছে, যেগুলো কোন ব্যক্তির মনোভাব যথেষ্ট পরিমাণে প্রভাবিত এবং পরিবর্তন তথা গঠন করতে পারে...
১। আবেগ
২। লিঙ্গ ও বয়স
৩। সংঘবদ্ধ প্রচার কাজ-কারবার
৪। মানসিক অবস্থা
৫। যুক্তি
৬। মেজাজ
আমাদের চারপাশের পরিবেশ, আমাদের প্রাপ্ত শিক্ষা এবং আমাদের অভিজ্ঞতাই মুলত আমাদের মনোভাব গঠনে সবচেয়ে বড় ভুমিকা পালন করে।
যদি, এই তিনটি উপাদান আমাদেরকে ইতিবাচক অবস্থার মুখোমুখি করে, তবে আমাদের মনোভাব ইতিবাচক হবে, তাই স্বাভাবিক। তবে, যদি এই তিনটি উপদানে নেতিবাচক কিছু থাকে, এবং আমরা তা গ্রহণ করি, তবে আমাদের নেতিবাচক মনোভাব গঠিত হবে।
যদি, আমরা আমাদের জীবনে সাফল্য লাভের প্রত্যয়ে এগিয়ে যেতে চাই, তবে আমাদের ইতিবাচক মনোভাব থাকা এবং না থাকলে, তা গঠনের চেষ্টা করা আবশ্যক। নচেৎ, সাফল্য লাভের পথ কণ্টকযুক্ত হতে পারে।


0 comments:
Post a Comment