আসলে পড়াশোনার উদ্দেশ্য ছিল নিজেকে শিক্ষিত করা। কিন্তু কালক্রমে সেটা হয়ে গেলো চাকরীর জন্য পড়া। চাকরী নিয়ে মাথা ব্যথা আর সেই মাথা ব্যথা এসে দাড়ায় পরিক্ষা নিয়ে মাথা ব্যথায়। কেননা, পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে পারলে, তবেই না চাকরী নামক সোনার হরিণ পাওয়া যাবে! থাক সেই সোনার হরিণের কথা। চলে আসি যে কথা বলতেছিলাম, সেই কথায়।
তো, যদি শিক্ষিত হবার জন্য, নিজেকে জানার জন্য চাকরীর চেয়ে শেখাটা এবং প্রকৃত শিক্ষিত হওয়া ব্যাপারটা প্রাধান্য পেতো বেশি, তাহলে হয়তো একটি সুন্দর পরিপাটী সমাজে বসবাস করতে পারতাম আমরা। সে যাইহোক, আপনি যে লেখাপড়া করছেন, এর যে উদ্দেশ্যই থাকুক না কেন, পরীক্ষায় তো আপনাকে যোগ দিতেই হবে, যেহেতু আপনি একজন ছাত্র। আর পরীক্ষাতে ভালো রেজাল্ট তৈরির জন্য আপনাকে তো একটু খাটতেই হবে। আপনি যেন স্বল্প সময়ে পড়া তৈরি করতে পারেন, সেই জন্যই কিছু টিপস রইলো পরবর্তী লেখাগুলিতে।
১। প্রথমত শুরুটা কিন্তু করতে হবে বছরের শুরু থেকেই। একদম ফাঁকি দেয়া চলবে না।
২। দ্বিতীয়ত নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা মেনে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া।
৩। যেসব বই পড়তে বলা হয়েছে, বা আপনার যেসব সাবজেক্ট এর উপর এক্সাম দিতে হবে, সেসব প্রয়োজনীয় বইগুলো সংগ্রহ করে ফেলতে হবে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই। তবে, শিক্ষকের পরামর্শের বাইরেও নিজের পছন্দমতো বই সংগ্রহ করা দরকার। কারন, পড়ার মতো প্রচুর বই রয়েছে।
৪। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রচলিত নোটবই অনুসরণ করার চেয়ে টেক্সট বই অনুসরণ করতে হবে। নোটবই এর সাহায্য নেয়া যেতে পারে, তবে নোটবই এর উপর নির্ভর করা যাবে না।
৫। পরীক্ষার ধরণটা কেমন হবে, সে ব্যাপারে পর্যাপ্ত ধারণা নিতে হবে। কেবল পড়লেই চলবে না, প্রশ্নপত্রের ধরণ এবং সিলেবাস সম্পর্কে থাকতে হবে পূর্ণ ধারণা। কেননা, প্রশ্নপত্র এবং সিলেবাস সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা থাকা ছাড়া, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল আশা করা এক ধরণের বোকামি।
৬। আপনি যতক্ষণই পড়েন না কেন, পড়তে হবে পরিপূর্ণ মনোযোগের সাথে। যখন মনোযোগ থাকবে পাঠ্যবই এ এবং পড়ার সময় মজা নিয়ে পড়তে পারবেন, তখন দেখবেন যে আপনার পড়া ও খুব ভালো হচ্ছে এবং দ্রুত পড়া তৈরি করতে পারছেন।
৭। দ্রুত পড়াশোনা করা কোন ম্যাজিক নয়, নয় কোন শিল্পীর রং এর তুলির ছোঁয়া। দ্রুত পড়া তৈরি করার একমাত্র টেকনিক ই হলো পরিপূর্ণ মনঃসংযোগ করে পাঠ্যবই এ নিবিষ্ট হওয়া এবং আগ্রহ নিয়ে পড়া।
৮। আপনি যখন জানার জন্য পড়বেন, তখন আপনার পড়া তৈরি হবে খুব সুন্দর করে এবং আপনি যখনি পড়বেন, তখনি পড়াশোনায় মজা পাবেন।
আমরা লক্ষ্য করলে দেখতে পাবো যে, কেউ কেউ খুব অল্প সময়ে পড়া তৈরি করতে পারছে। অর্থাৎ, কেউ কেউ অল্প পড়েই পরীক্ষায় খুব ভালো রেজাল্ট করছে। অন্যদিকে, কেউ কেউ সারাদিন পড়েও আশানুরূপ ফলাফল পাচ্ছে না। অন্যান্য কাজের ন্যায়, পড়াশোনাতে কিছু টেকনিক ফলো করে পড়াশোনা করলে দ্রুত এগুনো যায়। এছাড়াও, কোন বিষয়ে দ্রুত পড়া তৈরির জন্য সে বিষয়ের বেসিক এর উপর ভালো দক্ষতা থাকা উচিত।




0 comments:
Post a Comment