twitter

জাবেদা কি? জাবেদা সম্পর্কিত ২৫ টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আমরা জানি যে, প্রত্যেকটি লেনদেনই একেকটি ঘটনা, কিন্তু প্রত্যেকটি ঘটনাই লেনদেন নয়। হিসাব প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য, কোন ঘটনা লেনদেন কিনা তা চিহ্নিত করার পর, ডেবিট এবং ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে হিসাবের বহিতে লিপিবদ্ধ করতে হয়। জাবেদাকে হিসাবের প্রাথমিক বই বলা হয়।

হিসাবের পাকা বই হল খতিয়ান। হিসাব প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ খতিয়ান তৈরির ক্ষেত্রে জাবেদা সহায়ক বই হিসেবে কাজ করে। কারন, জাবেদা থেকে খতিয়ান তৈরি করা অনেক সহজ এবং সময় ও শ্রমের সাশ্রয় হয়।


জাবেদার জন্য এখন আমাদের একটি সহজবোধ্য, সুশৃঙ্খল এবং যুক্তিযুক্ত সংজ্ঞা প্রয়োজন। নিম্নে তা প্রাদান করা হলঃ-

দুতরফা দাখিলার নিয়ম অনুসারে আর্থিক লেনদেন গুলোকে চিহ্নিত করে ডেবিট ও ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে সেগুলকে তারিখের ক্রমানুসারে লিপিবদ্ধ করাকে জাবেদা বলে । 


জাবেদার ঘর/ছক

জাবেদা সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ 
১। জাবেদা হিসাবের প্রাথমিক বই।

২। জাবেদা সংরক্ষন করা বাধ্যতামূলক নয়।

৩। জাবেদাকে যেসব নামে আখ্যায়িত করা হয়- মৌলিক দাখিলার বহি, লেনদেনের সময়ানুক্রমিক রেকর্ড, সহকারী দাখিলার বই, দৈনন্দিন দাখিলার বই ইত্যাদি।

৪। জাবেদার মাধ্যমে হিসাব প্রক্রিয়ার শুরু হয়।

৫। জাবেদা থেকে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়। অর্থাৎ, খতিয়ান প্রস্তুত এর ক্ষেত্রে সহায়ক বই হিসেবে কাজ করে থাকে- জাবেদা।

৬। জাবেদা প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত- ক) বিশেষ জাবেদা(Special Journal) খ) সাধারণ জাবেদা(General Journal)।

৭। জাবেদায় তারিখের ক্রমানুসারে লিপিবদ্ধ করা হয়, এ কারনে নির্দিষ্ট তারিখে, সপ্তাহে বা মাসে মোট কতোটি লেনদেন ঘটেছে, তা সহজেই জানা যায়।

৮। ভিবিন্ন সময়ে মোট কতো টাকার লেনদেন হয়েছে তা জাবেদে থেকে জানা সম্ভব।

৯। কোন সন্দেহ বা প্রশ্ন, লেনদেন সম্পর্কিত হয়ে থাকলে ,তা জাবেদা হতে তার ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব ।

১০। জাবেদা প্রত্যেকটি লেনদেন হতে দুটি সত্তা বের করে অর্থাৎ হিসাবের ডেবিট খাত এবং হিসাবের ক্রেডিট খাত বিশ্লেষণ করে দেখায়।

১১। বাবসায়ের আকার কি রকম,লেনদেনের ধরন কেমন এবং লেনদেনের সংখ্যা কতো এগুলোর ওপর ভিত্তি করে,জাবেদার বিভক্তিকরন করা হয়;যেমনঃ নগদান বই,ক্রয় বই,বিক্রয় বই,ক্রয় ফেরত বই,বিক্রয় ফেরত বই ইত্যাদি।

১২। বাবসায়ে প্রতিদিন অগনিত লেনদেন হয়ে থাকে,এগুলোর কারন এবং ধরন মানুষের স্মৃতি দ্বারা মনে রাখা সম্ভব নয়।কিন্ত জাবেদায় এগুলো লিপিবদ্ধ থাকে। তাই ভবিষ্যতে, জাবেদা থেকে যেকোনো লেনদেনকে চিহ্নিতকরণ এবং এর ধরণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব।

১৩। জাবেদা থেকে জানা যায়- মোট লেনদেন এর সংখ্যা, মোট অর্থের পরিমাণ, লেনদেন সংঘটিত হওয়ার কারন।

১৪। নগদ অর্থে পণ্য ক্রয় সর্বপ্রথম লিখতে হয় জাবেদায়।

১৫। সমাপনি জাবেদা দাখিলার মাধ্যমে- আয়-ব্যয় হিসাব বন্ধ করা হয়।

১৬। জাবেদায় তারিখ লেখার নিয়ম হল- প্রথমে দিন, তারপর মাস এবং সবশেষে সাল বা বছর।

১৭।  ভুল সংশোধনের জন্য প্রদান করা হয়- সংশোধনী দাখিলা/ সংশোধনী জাবেদা।

১৮। প্রতিটি লেনদেন এর উৎপত্তির কারন জানা যায়- জাবেদার মাধ্যমে।

১৯। লেনদেন সংঘটনের কারন ব্যাখ্যা করা হয়- প্রত্যেকটি জাবেদা দাখিলার(journal entry) নিচে।

২০। বিশেষ জাবেদাকে ছয় ভাগে ভাগ করা হয়।

২১। প্রকৃত জাবেদাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।

২২। ক্রয় ও বিক্রয় জাবেদা তৈরি হয়- চালানের উপর ভিত্তি করে।

২৩। যদি নামের সাথে নগদ, চেক, ব্যাংক প্রভৃতি কথা যুক্ত থাকলে - নগদে ক্রয়, বিক্রয় হিসাবে।

২৪। দেনা পাওনা দ্রুত নিস্পত্তির লক্ষ্যে বিক্রেতা ক্রেতাকে যে টাকা ছাড় দেয় তাকে বলে- নগদ বাট্টা।

২৫। বিগত বছরের হিসাবকালের সম্পত্তি ও দায়সমূহ বর্তমান বছরের নতুন হিসাব বহিতে আনার জন্য প্রাদান করা হয়- প্রারম্ভিক দাখিলা।

0 comments:

Post a Comment